হোমটলিউড

ভারতকেও ‘সোনার এলডোরাডো’ বানিয়ে দেবেন প্রফেসর?

  | December 21, 2019 14:37 IST (কলকাতা)
Sandip Ray

প্রফেসর শঙ্কু ও এসডোরাডো

বাহুল্যহীন গ্রাফিক্স, বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ, মেদহীন চিত্রনাট্য আর কানে আরাম দেওয়ার মতো আবহ--- সব মিলিয়ে বড়দিনের সত্যিই বড় প্রাপ্তি প্রফেসর শঙ্কু।

ছবি: প্রফেসর শঙ্কু ও এলডোরাডো

পরিচালক: সন্দীপ রায়

অভিনয়: ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, শুভ্রজিৎ দত্ত,

প্রযোজনা: শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস


রেটিং : ৪.৫/৫

প্রফেসর শঙ্কু। গিরিডির বাড়িতে। বিজ্ঞানের সাহায্যে ঘরের ভেতরেই এনে ফেলেছেন বিদেশকে। প্রোজেকশন মেশিনে দিব্যি কথাবার্তা চালান ভিনদেশি বন্ধুদের সঙ্গে। তাঁরা ডাক পাঠান ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কুকে। ব্রাজিলে তাঁর কাজ, আবিষ্কার তুলে ধরার জন্য। যাওয়ার কথা যখন চলছে তখনই তাঁর কাছে মাকড়দহ থেকে আসেন নকুড় চন্দ্র বিশ্বাস। যিনি আচমকা এক ঝড়-বৃষ্টির দিনে লাইটেনিং বল বা বৈদ্যুতিক গোলার ধাক্কায় অতীত-বর্তমান দেখার ক্ষমতা লাভ করেছেন। আলাপের পরেই তিনি জানান, ব্রাজিলে গিয়ে বিপদে পড়বেন শঙ্কু। তিনি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন। এবং প্রফেসরের অনুমতিতে তিনি সফরসঙ্গী হন।

ব্রাজিলে পা রেখে ভালোর পাশাপাশি কিছু মন্দও ঘটতে থাকে প্রফেসরের সঙ্গে। যেমন, তাঁর এতদিনের আবিষ্কার, গবেষণা সেখানকার সংগ্রহশালায় পরম সমাদরে স্থান পেলেও একসময় তা চুরি হয় অতি চেনা আরেক সফরসঙ্গীর হাত দিয়ে। বিদেশি ব্যবসায়ী সলমন গার্ডেনিয়ার প্রচুর অর্থের বিনিময়ে জোর করে পেটেন্ট কিনতে চায় প্রফেসরের অত্যাশ্চর্য আবিষ্কার মিউরোকিউরল অয়েনমেন্ট, বড়ি, অ্যানাইলিম গান বা বন্দুকের। প্রফেসর সেই ফাঁদে পা না দিতেই আসল মূর্তি ধরে সে। কিন্তু নকুড়বাবু থাকতে বিদেশ-বিভূঁইয়ে বিপদে পড়বেন ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু, হতে পারে? কিন্তু কী করে বাঁচাবেন নকুড়বাবু আমাদের প্রফেসরকে? এটা বড়পর্দা বলবে।

সত্যজিৎ রায় ছিলেন আমার সেন্সর: সন্দীপ রায়

২০১৬-য় প্রথম যখন এসভিএফ ঘোষণা করেছিল, প্রফেসর শঙ্কু নিয়ে আসছেন সন্দীপ রায় তখন থেকে বাঙালি মুখিয়ে তাঁকে দেখার জন্য। সন্দীপ রায় সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছেন ভীষণ সহজ ভঙ্গিতে। বাবার মতোই স্কেচ মিলিয়ে চরিত্র বেছেছেন। তাই তাঁর মতো দক্ষ পরিচালক প্রফেসর শঙ্কুর পর্দার রূপে ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় ছাড়া আর কাউকেই ভাবতে পারেনি। NDTV-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন এর কারণ। প্রফেসরের বয়সী-ই এই প্রবীণ, বিচক্ষণ অভিনেতা। প্রগাঢ় পাণ্ডিত্য। অনেক ভাষায় দক্ষ। চোখের চাহনিতে প্রচণ্ড তীক্ষ্ণতা। এবং চেহারায় শঙ্কুর মতোই ঋষিসুলভ ভাব। মেকআপে, হাঁটাচলা-কথা বলা, অভিনয়ে ধৃতিমান সন্দীপের ষোলো আনা ভরসার আঠেরো আনা ফিরিয়ে দিয়েছেন। নকুড়বাবু চেহারার সঙ্গে পারফেক্ট গেছেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। সত্যজিৎ রায়ের আঁকা নকুড়বাবুর পোট্রেটের পাশে শুভাশিসকে দাঁড় করালে মনে হবে একে অন্যের ছায়া। আর রসায়নও যে জোরদার এই জুটির সেটা প্রমাণিত 'গোরস্থানে সাবধান'-এ অভিনয়ের সময়েই।

টেকনোলজি এই ছবির প্রাণ অবশ্যই। কিন্তু কখনও তা গল্পকে ছাপিয়ে ওঠেনি। বরং ছবিকে আরও ঋদ্ধ করেছে। বাহুল্যহীন গ্রাফিক্স, বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ, মেদহীন চিত্রনাট্য আর কানে আরাম দেওয়ার মতো আবহ--- সব মিলিয়ে বড়দিনের সত্যিই বড় প্রাপ্তি প্রফেসর শঙ্কু। ভ্রমণবিলাসী বাঙালির বাড়তি পাওনা, সাও পাওলোর অসাধারণ দৃশ্য। শুধু মিথ হয়ে যাওয়া সোনার শহর এলডোরাডো দেখে মুগ্ধ মনে একটাই প্রশ্ন জেগেছে, প্রফেসর পারেন না, বর্তমানের অশান্ত-অসহিষ্ণু ভারতকে বিজ্ঞানের পরশে এরকমই 'সোনার দেশ' বানিয়ে দিতে? আমাদের দেশের সভ্যতাও কি শেষে এলডোরাডোর মতোই 'মিথ' হয়ে যাবে?


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com