হোমরিভিউস

Review: পরম-রুদ্রনীল ‘বন্ধুত্ব’-ই সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ-এর আকর্ষণ

  | October 16, 2019 08:00 IST (কলকাতা)
Satyanweshi Byomkesh

দেশ ভাগ হওয়ার পর এদেশে চলে আসা মুসলিম মেয়েকে ঠাঁই দিতে নারাজ এক পরিবার। বিশেষ করে সেই পরিবারের কর্ত্রীর। কারণ, মেয়ের স্বভাব মন্দ। এবং বাড়ির পুরুষের পদস্খলনের কথা তাঁর অজানা নয়।

ছবি: সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ

পরিচালকসায়ন্তন ঘোষাল

অভিনয়: পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, সুমন্ত মুখোপাধ্যায়, অঞ্জন দত্ত, গার্গী রায়চৌধুরী।

প্রযোজনা: গ্রিন টাচ এন্টারচেনমেন্ট


রেটিং : ২.৫/৫


১৯৭১ সাল। দেশভাগ, নকশাল পিরিয়ডের কথা ছিল শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মগ্ন মৈনাক উপন্যাসে। সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছুঁয়েছে সায়ন্তন ঘোষালের ( Sayantan Ghoshal) ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ' (Satyanweshi Byomkesh) ছবি। যদিও মূল গল্প পারিবারিক কেচ্ছা নিয়ে। দেশ ভাগ হওয়ার পর এদেশে চলে আসা মুসলিম মেয়েকে ঠাঁই দিতে নারাজ এক পরিবার। বিশেষ করে সেই পরিবারের কর্ত্রীর। কারণ, মেয়ের স্বভাব মন্দ। এবং বাড়ির পুরুষের পদস্খলনের কথা তাঁর অজানা নয়। আচমকাই সেই মেয়ের মৃত্যু প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায় পরিবারের সমস্ত সদস্যদের ডাক পড়ে ব্যোমকেশ বক্সীর।

ফেলুদার পরেই যে গোয়েন্দা বাঙালির পরম প্রিয় তিনি ব্যোমকেশ। মহানায়ক উত্তমকুমার হয়ে হালে যীশু সেনগুপ্ত, অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সবাই এক-দু-বার এই জুতোয় পা গলিয়েছেন। এই প্রথম সেই চরিত্রে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু আজ কেন জানি না রজিত কাপুরের ব্যোমকেশ চোখ থেকে সরে না। ফলে, তুলনা না করেও তাঁকেই আমরা খুঁজে ফিরি যতবার পর্দায় ব্যোমকেশ ফেরেন। ব্যোমকেশের সাহিত্যিক বন্ধু অজিত রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি তাঁর মতো করে অভিনয় করেছেন। ব্যোমকেশ একেবারে তরুণ বয়সে কেমন ছিলেন, পাঠকদের জানা নেই। সবাই তাঁকে পরিণত বয়সে দেখেছেন। ফলে, তিনি শান্ত, স্থিতধী। এই ছবিতে পরম যেন তাঁর অল্প বয়সের রূপ। তাই বোধহয় তিনি একটু বেশিই চঞ্চল। একটু আলট্রা স্মার্ট। 

দীর্ঘদিন পরে সুমন্ত মুখোপধ্যায় ফের পর্দাজুড়ে অভিনয় করলেন। স্ত্রীর চরিত্রে স্বরূপা ঘোষ তাঁর যোগ্য সঙ্গতকার। কাহিনি-চিত্রনাট্য-সংলাপ সামলানোর পরে অ়ঞ্জন দত্তের রবি শর্মা তাঁকে টপকে যেতে পারেননি। গার্গী রায়চৌধুরীকে দেখে মনে পড়তেই পারে 'উমরাওজান'। কিন্তু ছবি দেখতে বসে বেশ কিছু প্রশ্ন জাগে মনে। ব্যোমকেশ কোনোদিন লিনেন শার্ট-প্যান্ট পড়েছেন! যেখানে তাঁর বন্ধু ধুতি-পা়ঞ্জাবি শোভিত! ব্যোমকেশের চোখের চশমাও হালফ্যাশনের। অযথা কেন তিনি একজন মুজরেওয়ালির সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়ালেন? সেই সময়ে যাঁরা মুজরো করতেন তাঁরা সিগারেট খেতেন! গোয়েন্দা গল্প মানেই আলো-আঁধারির প্রাবল্য? ভালো লেগেছে নীল দত্তের আবহ। এই ছবির যদি ফ্র্যাঞ্জাইজি হয়, তাহলে এই খামতিগুলোর দিকে যদি পরিচালক দৃষ্টি দেন, তাহলেই যোলআনা নিখুঁত ব্যোমকেস সিরিজ তৈরি হবে। তবে স্বীকার করতেই হবে, পর্দার বাইরে পর-রুদ্রের বন্ধুত্ব এই ছবিতে যথেষ্ট ছাপ ফেলেছে। সেটাই  এই ছবি থেকে পরম পাওয়া।





বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement