হোমরিভিউস

স্যাটা বোস নেই তবু ‘শংকর’ আছেন শাহজাহান রিজেন্সিতে

  | January 21, 2019 09:28 IST (কলকাতা)
Shahjahan Regency

সুরজিৎ ঘোষের থেকে জেনে নিন শাহজাহান রিজেন্সির রিভিউ।

পরিচালক- সৃজিত মুখার্জি

অভিনয়- আবীর চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কাঞ্চন মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়, পল্লবী চট্টোপাধ্যায়, অঞ্জন দত্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, মমতাশঙ্কর, সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, ঋতিকা সেন প্রমুখ

রেটিং- ৩/৫

বাংলা সাহিত্যের শেষ কয়েক দশকের অন্যতম সেরা সৃষ্টি চৌরঙ্গী। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এক কালজয়ী রচনা বাঙালিকে  উপহার দেন মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। পরে সেই গল্প নিয়ে ছবিও হয়। মুখ্য চরিত্র স্যাটা বোসের  জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। সেই চরিত্রে অভিনয় করে তারিফ কুড়িয়েছিলেন উত্তম কুমার। এবার এই গল্পকে  নতুন ভাবে দর্শকের সামনে  নিয়ে এসেছেন  সৃজিত মুখোপাধ্যায়।  শংকরের লেখা যে হোটেলকে ঘিরে সেটির নাম শাহজাহান। এই নামের সঙ্গে মিল রেখে ছবির নাম শাহজাহান রিজেন্সি। কলকাতার এক  বিখ্যাত হোটেল এবং সেখানে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা নিয়েই ছবি।


প্রথমেই বলতে হয় এই মুহূর্তে টলি পাড়ার বিখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ছবিতে নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা বাড়িয়েছেন পরিচালক। একই ছবিতে এই সময়ের সেরা অভিনেতাদের পাওয়া নিশ্চয় বাড়তি পাওনা। তাঁদের কাজে লাগাতেও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন পরিচালক। মূল লেখার সঙ্গে  ছবির চরিত্রের নামে কিছু ফারাক আছে  ঠিকই কিন্তু ঘটনার অভিঘাত প্রায় এক। মানে গল্পের সঙ্গে ছবির মূল কাঠামোর একটা মিল দেখতে পাওয়া যায়।  

আরও পড়ুনঃ রিভিউঃ বিসর্জনের ছায়া হয়েই থেকে গেল বিজয়া

এখানে  শংকর স্যাটা বোস নন, রুদ্র। এই চরিত্রে দেখা গিয়েছে  পরমব্রতকে। তাঁর চোখ দিয়েই গল্পটি দেখেন দর্শকরা। অন্য চাকরি হারিয়ে হোটেলে আসা রুদ্র কাজ শুরু করেন সমীরণের অধীনে। অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শেখা আর জীবন দর্শন দুটোই হয় রুদ্রর। সমীরণের চরিত্রে আবিরকে বেশ লেগেছে। ছবির অনেকটা জুড়ে রয়েছেন  দুই অভিনেতা। তাঁদের সমীকরণ দর্শককে আকর্ষণ করে।

এই হোটেলের মালিকের চরিত্রে আছেন অঞ্জন দত্ত। ছবিতে  বেশ কিছুটা সময় দেখা গেলেও চরিত্র নিয়ে হাত খোলার তেমন সুযোগ ছিল না তাঁর। তবে  এখনকার সময় ধরলে কয়েকটি দিক থেকে তিনি একজন ব্যতিক্রমী কর্ণধার।   

এবার ছবির মহিলা চরিত্রদের নিয়ে আলোচনায় আসা যাক।  ঋতুপর্ণাও ছবিতে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। তার কারণ তাঁর চরিত্রটিও কিছুটা ছকে বাঁধা। এছাড়া স্বস্তিকা বা  ঋতিকাকে ভাল না লেগে উপায় নেই। ছোট চরিত্রে বাবুল সুপ্রিয় বা কাঞ্চন মল্লিকও দর্শকের নজর কাড়েন ।

আরও পড়ুনঃ রিভিউ: পাভেলের রসগোল্লা চেখে দেখতেই হবে

ছবিতে আলাদা করে নজর কাড়েন মমতাশঙ্করও। বিশেষ করে একটি দৃশ্যের কথা বলতে হয়।  মমতাশঙ্করের ছেলের ভূমিকায় অনির্বাণ ভট্টাচার্য। একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সঙ্গে স্বস্তিকার প্রেম হয়। ছবিতে বারবণিতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্বস্তিকা। স্বভাবতই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি পরিবার। মা হিসেবে নিজের হাতে সম্পর্ক ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। এই দুজনের দ্বৈরথ ভাল লাগে।

এর বাইরে আরও কয়েকটি জিনিস ভাল লাগে। তার মধ্যে একটি সমকামিতা সম্পর্কিত।আধুনিক সমাজও যে সমকামিতা সম্পর্কে সচেতন নয় সেটাই দেখিয়েছেন পরিচালক।আর একটি ভাল লাগার বিষয় হল ছবির গান। এছাড়া জমাটি সংলাপের কথাও বাদ দেওয়া যায় না।

এত ভাল লাগার মধ্যে কয়েকটি জিনিস খারাপও লাগে। আর সেটা হল গল্পের খেই হারিয়ে ফেলা। কয়েকটি জায়গায় গল্পের দিশা খুঁজে পাওয়া যায় না। এর উপর ছবির দৈর্ঘ্য ও একটি বিষয়। টি- টোয়েন্টির যুগে দর্শকদের মধ্যে ছেড়ে দে কেঁদে বাঁচি গোছের মনোভাব তৈরি না করাই শ্রেয় বোধহয়।         


 


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement