হোমরিভিউস

Gotro Review: জন্ম হোক যথা তথা, গোত্র হোক মানবতা

  | August 24, 2019 13:29 IST (কলকাতা)
Window’s Production

Gotro Review: জন্ম হোক যথা তথা, গোত্র হোক মনুষ্যত্ব

Gotro Review: বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপে, গানে, দৃশ্যায়নে, সমাজের প্রতি বার্তা ছড়িয়ে ফের উইন্ডোজ প্রমাণ করল, বছরে দুটো ছবি করলেও, কোয়ালিটির সঙ্গে তাঁরা মোটেই কম্প্রোমাইজ করে না।

ছবি :  গোত্র

পরিচালক: নন্দিতা রায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

অভিনয়: অনসূয়া মজুমদার, নাইজেল আকারা, মানালি মনীষা দে, খরাজ মুখোপাধ্যায়, সন্তু মুখোপাধ্যায়, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, বাদশা মৈত্র, অম্বরীশ ভট্টাচার্য বিশ্বনাথ বসু, দেবলীনা কুমার

প্রযোজনা: উইন্ডোজ প্রোডাকশন


রেটিং: ৪.৫/৫

ট্যাগ লাইন: মেরে পাস মেরে মা হ্যায়

গৌরচন্দ্রিকা: একজন মা (Mother) ছেলের জন্য কতটা করতে পারেন? শাসন করতে পারেন। সোহাগ করতে পারেন। ছেলে লেখাপড়া বেশিদূর না শিখতে পারলে তাকে আলাদা করে পড়াশোনা শেখাতে পারেন। পড়া না পারলে কান ধরে শাস্তি দিয়ে দাঁড় করিয়ে দিতে পারেন। মিথ্যে বললে বাড়ির বাইরে বের করে দিতে পারেন। আর বাড়িতে পুজো হলে তার নামে সংকল্প করে বলতে পারেন ‘গোত্র (Gotro) মনুষ্যত্ব। ধর্ম মানবিকতা।'

খবরের কাগজে লিড স্টোরি বানানোও তো হাফ গোয়েন্দাগিরি

আর সেই ছেলে? একবার 'মা' হারিয়ে নতুন করে তাঁকে ফিরে পেলে কী করবে আর কী করবে না---বুঝেই উঠতে পারে না! বকলে বিরক্তিতে দাঁত কিড়মিড় করে। আদর পেলেই দুনিয়া তার পায়ে উপুড় করতে চায়। পড়াতে বসালেই রাজ্যের বিরক্তি। মায়ের জন্য সে প্লাম্বার থেকে রাজমিস্ত্রি--- এ টু জেড। মায়ের বাড়ির ওপর প্রমোটার শকুনের নজর পড়লে তাকে খুন করতে গিয়েও হাত নামিয়ে নেয় শুধুমাত্র মায়ের নির্দেশ কানে বাজতেই। মা অসুস্থ হলে তাঁর নোংরা পোশাক ধুয়ে-কেচে শুকোতে দিতেও দ্বিধা করে না।

0a5puq7


অন্দরের অন্তরে: উইন্ডোজ প্রোডাকশনের (Window's Production) 'গোত্র' ছবির গল্প মা-ছেলের এরকম টুকরো টুকরো অন্তরঙ্গ দৃশ্য জুড়েই। পুরাণে যে যশোদা আর কৃষ্ণের কাহিনি আছে তারই একুশের সংস্করণ এই ছবি। যেখানে গোবিন্দধামের মুক্তি দেবীকে তাঁর পেটের ছেলে বাইরে থাকার সুবাদে রেখে যান এক কেয়ারটেকারের জিম্মায়। সেই কেয়ারটেকার তারেক আলি। ৯ বছরের জেল খাটা আসামী। দুটো খুনের মামলা সহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ তার মাথায়। লম্বা লম্বা চুল, বিশাল চেহারার এই কেয়ারটেকারকে প্রথম দেখার পর যদিও মুক্তি দেবীর মনে হয়েছিল 'হুলো বেড়াল'! তারেকের কাছেও মুক্তি দেবী পয়লা দর্শনেই মা নন। তবে কোথাও যেন সেই সুর রিনরিন করে তার মনে বেজেছিল। 

স্বাধীনতার ৭৩ বছর পরেও সত্যের জয় ঘুরপথে !

এছাড়াও গোবিন্দধামে আছে মুক্তি দেবীর ডান হাত ঝুমা পাল। গোপালের নিত্যপুজোর পুরোহিত। একমাত্র ছেলে অণির্বাণের পুলিশ অফিসার বন্ধু, মুক্তি দেবীর 'বয়ফ্রেন্ড' সজল জ্যেঠু। আর শকুন বাপি। যে প্রমোটারির জন্য দরকারে মুক্তি দেবীকে মেরে তাঁর গোবিন্দধামের দখল নিতে পারে। আছে তারেক-ঝুমার দুষ্টু-মিষ্টি প্রেম। মা-ছেলে-হবু বউমার ওড়িশা ভ্রমণ। জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে সর্বধর্মসমন্বয়ের বার্তা। আরেক হিন্দুর উৎসবে মুসলিম তারেক আলির ভোগ পরিবশন নিয়ে শকুন বাপির প্রতিবাদের বিরুদ্ধে পালিত ছেলের হয়ে আগ্রা শহরের হিন্দু-মুসলিমের একসঙ্গে জন্মাষ্টমী পালনের উদাহরণ টেনে কোমর বেঁধে মুক্তি দেবীর আন্দোলন। এবং শেষে পালিত ছেলেকে মায়ের গোত্র দান..... নাহ!, আর বললে আপনারা হলে গিয়ে কী দেখবেন!

যিনি যেমন: এখানে আধুনিক যশোদা মা অনসূয়া মজুমদার। যিনি চোখে হারান নিজের ছেলেকে। ছেলেকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে বারবারে কেয়ারটেকার তাড়িয়েছেন। শেষপর্যন্ত বাঁধা পড়েছেন তারেক আলির কাছে। যে সারাক্ষণ তার মৃত মায়ের স্মৃতি বুকে আগলে মুক্তি দেবীর মধ্যেই হারানো মাকে খুঁজে পায়। গরমের ছুটিতে আসার কথা দিয়েও যখন ছেলে আসতে পারে না, তখন মুক্তি দেবীর ছলছল চোখ দেখে তার বুকে মোচড় পড়ে। আবেগে বলে ওঠে, আমি তোমায় মা বলে ডাকতে পারি? এবং শেষপর্যন্ত মুক্তি দেবীও স্বীকার করে নেন, বরাবর ছেলের শখ। এই বয়সে এসে ভগবান আবার একটা ছেলে জুটিয়ে দেবেন, কে জানত! একই প্রোডাকশনের 'মুখার্জিদা-র বউ'-এ শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয়ের পর অনুসূয়া এই ছবিতে ফের কাঁপিয়ে দিয়েছেন। ছবির শেষে তিনি নিজে স্বীকার করেছেন, 'দেখতে দেখতে চোখে জল এসে গেছে'। ছবিকে প্রাণবন্ত করার দায়িত্ব ছিল মানালির ওপর। সেটা ২০০ শতাংশ পালন করেছেন তিনি। তিনি আর নাইজেল যেন সত্যিই বাংলার অমিতাভ-জয়া! শকুন বাপির চরিত্রে কমিক আর ভিলেনের যুগলবন্দি কাকে বলে দেখিয়ে দিয়েছেন খরাজ। বাকিরা যথাযথ। দুটি পেপি সং-এ দুরন্ত বিশ্বনাথ বসু আর দেবলীনা কুমার। বাকি নাইজেল আকারা। সবাই যেখানে বাঘা অভিনেতা এবং নিয়মিত অভিনয় করেন সেখানে নাইজেল নিয়মিত লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের মধ্যে না থেকেও অ-সাধারণ। টাইমিং বুঝে জেশ্চার-পশ্চার পালটানো, চোখের জল, বিরক্তি, রাগ, হুমকি, মাকে চোখে হারানো আর চাপা প্রেমে উদ্বেল এক প্রেমিক---সব মিলিয়ে সম্পূর্ণ অভিনেতা। নাইজেল নন্দিতা-শিবপ্রসাদের (Nandita Roy-Shiboprosad Mukherjee) প্রথম ছবি 'মুক্তোধারা'-তেও বাজিমাত করেছিলেন। এখানে যেন আরও ধারালো।

8qu4vmo


গানের জন্য আলাদা প্যারা রাখতেই হবে। অনিন্দ্য আর সুরজিৎ দুই চাটুজ্জে মশাই ভী-ষ-ণ ভালো গান হেঁশেল সামলেছেন। ছবির 'মা' গান 'তারে জমিন পর'-এর 'মেরি মা'-কে মনে করায়। 'মাসিমা হিটলার'-এর মতো গান যে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের থেকে আমরা পেতে পারি, সেটা না শুনলে বিশ্বাস করা মুশকিল। এই জন্যেই তো অনিন্দ্য ভার্সেটাইল। শ্রেয়ার দুটি গান 'নীল দিগন্তে' আর শেষ দৃশ্যে ব্যবহৃত---দুটোই খুব মিষ্টি। রইল বাকি সুরজিতের 'রঙ্গবতী'। অ-নে-ক বছর পর পুজোয় নাচের জন্য একটা গান উপহার দিলেন আপনি। অষ্টমীতে ধুনুচির সঙ্গে বা বিসর্জনের সময়। এই জন্য আপনাকে স্পেশ্যাল থ্যাঙ্ক ইউ। 

বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপে, গানে, দৃশ্যায়নে, সমাজের প্রতি বার্তা ছড়িয়ে ফের উইন্ডোজ প্রমাণ করল, বছরে দুটো ছবি করলেও, কোয়ালিটির সঙ্গে তাঁরা মোটেই কম্প্রোমাইজ করে না। শেষ কথা, ভাগ্যিস শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাছে  মা জয়া মুখোপাধ্যায় ছিলেন! তাই তো তিনি সর্বজায়া হয়ে নিজের জীবন কাহিনি দিয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, অ-খ্যাতরাও অনুসরণযোগ্য। তাঁদের নিয়েও ছবি বানানো যেতে পারে। সত্যিই, মা পাশে থাকলে কী না হয়!।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement