হোমরিভিউস

রিভিউ: দাগ কাটতে পারলো না বসন্তের মহালয়া

  | March 03, 2019 12:13 IST (কলকাতা)
Review Mahalaya

বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের ভূমিকায় শুভাশীষ মুখোপাধ্যায়I

মহালয়া দেখে এসে রিভিউ লিখলেন পরিজা কর্মকার।

ছবি- মহালয়া
পরিচালনা- সৌমিক সেন
অভিনয়- শুভাশীষ মুখোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্ত, শুভময় চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ
রেটিং- ২.৫/৫

সৌমিক সেনের পরিচালনা ও চিত্রনাট্যে, দেবজ্যোতি মিশ্রের আবহে, শুভাশীষ মুখোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্ত, শুভময় চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়েও দর্শকের মনে দোলা দিতে পারলো না 'মহালয়া'। পরিচালক সৌমিক সেন এবং তন্ময় মুখোপাধ্যায় যথেষ্ট গবেষণা করেই ছবির সমস্ত সংলাপ রচনা করেছেন এবং তা বেশ কিছু ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু ১৯৭৬ সালের প্রেক্ষিতে সংলাপে অত্যাধিক ইংরেজি শব্দের ব্যবহার মাঝে মধ্যে যেন কানে পীড়াদায়ক বলে মনে হয়েছে।

কেমন একটা অসম্পূর্ণতা থেকে গেল গোটা ছবি জুড়ে। ১৯৭৬ সালে আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ 'উপরমহলের চাপে' মহালয়ার অনুষ্ঠানকে নতুনভাবে সকলের সামনে উপস্থাপনার চিন্তাভাবনা থেকেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পরিবর্তে বাঙালির মহানায়ক উত্তমকুমারকে দিয়ে স্তোত্রপাঠের পরিকল্পনা করে। আর তাকে কেন্দ্র করে যে বিপর্যয় নেমে আসে সেই ঘটনাকেই ফ্রেমে বাঁধতে চেয়েছিলেন পরিচালক। এই সমগ্র ঘটনাকে পরিচালক ফিচার ফিল্মের আকারে না বেঁধে ডকু-ফিচার বা মঞ্চে থিয়েটারের রূপদান করলে সমস্যা থাকতো না। ১ ঘন্টা ৪৮ মিনিট যেন এই ছবির ক্ষেত্রে অনেকটা বড় সময় বলে মনে হয়েছে। 

রিভিউঃ এই বৃষ্টি থেকে তেমন কিছু প্রত্যাশা না করা ভাল


বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের ভূমিকায় শুভাশীষ মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়ের সমালোচনা এক্ষেত্রে নিষ্প্রয়োজন। তিনি সংলাপ বলার সময় গলার যথেষ্ট মডিউলেশন করলেও বাস্তবের বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের স্তোত্রপাঠ শোনার পর পর্দায় বীরেন বাবুর গলা বড্ড বেমানান লেগেছে। যিশু সেনগুপ্ত অভিনয় খারাপ করেননি। তিনি প্রথম থেকেই বলেছিলেন তিনি উত্তম কুমার হয়ে ওঠার চেষ্টা করেননি। তাই সেই প্রসঙ্গ না টেনে বলা যায় তার অভিনয় খারাপ লাগেনি। বিশেষ ভূমিকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কেও দেখতে পাবেন। পঙ্কজ মল্লিকের ভূমিকায় শুভময় চট্টোপাধ্যায় মানানসই। ছবির মাঝপথে রবীন্দ্রনাথের দেখাও পাবেন।

গোটা ছবি জুড়ে সিপিয়া ফিল্টার ব্যবহার করেছেন পরিচালক। ভাবনা যথেষ্ট ভালো হলেও কিছুকিছু ক্ষেত্রে দর্শকের সমস্যা হবে আগের ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন ঘটনাকে আলাদা করতে। ক্যামেরার কাজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ ভাল করেছেন মৃন্ময় নন্দী। একটা দৃশ্যে বীরেন বাবু মহালয়ার প্রাক্কালে বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে বলেছেন "আকাশবাণী আমাকে ছেড়ে দিলেও আমি কি আকাশকে ছাড়তে পারি?" চিত্রায়ণ এই দৃশ্যটিকে বাড়তি মাত্রা দিয়েছে।

এ ছবির থেকে কি পাবেন দর্শক? ১৯৭৬ সালের ঘটনাকে যারা প্রত্যক্ষ করেছিলেন নস্টালজিয়ায় ভর করে পুরোনো স্মৃতি আরও একবার ঝালিয়ে নিতে পারবেন তারা। তবে নস্টালজিয়ার অংশটুকু বাদ দিয়ে দেখলে এই ছবি দেখে আখেরে লাভ কতটা হল তা হল থেকে বেরোনোর পর দর্শককে ভাবাবে বলেই মনে হয়।


 


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement