হোমআঞ্চলিক

রসগোল্লা নিয়ে মিষ্টি আড্ডায় পরিচালক পাভেল, উজান, অবন্তিকা ও রজতাভ দত্ত

  | December 17, 2018 13:15 IST (কলকাতা)
Rosogolla

আড্ডা চলাকালীন পরিচালকের সঙ্গে রজতাভ দত্ত, উজান ও অবন্তিকা।

রসগোল্লা মুক্তির আগে পরিচালক পাভেল, অভিনেতা উজান, অবন্তিকা ও রজতাভ দত্তের সঙ্গে মিষ্টি আড্ডা দিয়ে এসে লিখলেন পরিজা কর্মকার।

এই শীতে বাঙালিকে রসে বসে রাখতে পরিচালক পাভেল নিয়ে আসছেন 'রসগোল্লা'। ইতিমধ্যে শহরের রাস্তাঘাট হোর্ডিংয়ে মুড়ে নবীনচন্দ্র-খিরোদমনি জানান দিয়েছেন আগামী ২১ তারিখ তাঁদের সঙ্গে শহরবাসীর আলাপ হবে। জানা যাবে রসগোল্লা তৈরির নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা কাহিনী। এক যুবকের স্বপ্ন, জেদ ও ভালোবাসায় ভর করে স্বপ্নপূরণের কাহিনী। তার আগে রসগোল্লা ছবির পরিচালক পাভেল, নবীনচন্দ্র তথা উজান গঙ্গোপাধ্যায়, খিরোদমনি তথা অবন্তিকা বিশ্বাস ও কালীদাস ইন্দ্র তথা রজতাভ দত্তের সঙ্গে এক সন্ধ্যায় মিষ্টি আড্ডা দিয়ে এসে কলম ধরলেন পরিজা কর্মকার। আজ প্রকাশিত হল আড্ডার প্রথম পর্ব।

পরিজা- প্রতিদিন ক'টা করে রসগোল্লা খাওয়া হচ্ছে?
অবন্তিকা- চলছেই। ওর (উজান) চলছে না কিন্তু আমার চলছে। প্রোমোশনে আমাদের একটা কম্পালসারি ছবি আসে যে ও আমাকে রসগোল্লা খাওয়াচ্ছে। প্রতিদিন আমার তো ৭-৮ টা বা তার বেশিই চলছে।
পরিজা- আর উজান?
উজান- ও অর্ডার দিয়েছে। আমি বানাই। কখনও সুইগি ডেলিভারি বয়কে দেখেছো গাড়ির ওপর বসে নিজেই খাবার খাচ্ছে? সেটা তো কখনও হয় না!
অবন্তিকা- আমি যখন একেবারেই পারি না তখন উজান দাদা বলে 'দে একটা দুটো আমিও খাই'!
পরিজা- নবীনচন্দ্রের থেকেই প্রোমোশনের রসগোল্লা আনানো হচ্ছে?
পাভেল- নবীনচন্দ্র দাসের একটাই দোকান কলকাতায় আছে। কিন্তু এই মিষ্টিগুলো কথা থেকে আসছে তা আমার ঠিক জানা নেই।
রজতাভ- (হেঁসে) আঁটি গুণে কী হবে?
পরিজা- উজান অবন্তিকার জীবনে সম্ভবত এটাই প্রথম বড় ব্রেক?
রজতাভ- উজান,অবন্তিকা, পাভেল, উইন্ডোজ ও বাংলা ছবির জন্য এই ছবিটা কাল্ট হয়ে থাকবে।
পরিজা- ঠিক যেমন আপনার জীবনে 'আপনি থাকছেন স্যার'-এটা কাল্ট হয়েছে?
রজতাভ- না। ঠিক তা নয়। ওটা হওয়ার সময় বুঝতে পারিনি। হঠাৎ করেই হয়েছে। মিঠুন দার একটা এক্সপ্রেশনকে ঠিক গান হিট করানোর মতো করে মীর বারবার বলে কাল্ট করে দিয়েছিল। কিন্তু এই ছবিটা করতে করতে বোঝা গিয়েছিল যে ওইরকম জায়গায় পৌঁছতে চলেছে। কেবলমাত্র দুই মাসের এন্টারটেইনমেন্ট বা দর্শক কতজন দেখল তা দিয়ে বিচার করা যাবে না। এটা ভবিষ্যতের জন্য থেকে যাওয়ার ছবি।
পরিজা- আপনাকে কালিদাস ইন্দ্রের চরিত্রে দেখা যাবে। নিজের চরিত্রটা সম্পর্কে দু'এক কথায় যদি কিছু বলেন।
রজতাভ- ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙে। আমি এখানেও দুষ্টু লোক। (হাসি)
উজান- (হেসে) হ্যারি পটারের সেভেরাস স্নেপ। তারপর আর কিছু বলবো না।
পাভেল- দারুণ একটা রেফারেন্স দিলি তো! ক্লাসিক্যাল দুষ্টু লোক।
রজতাভ- প্রতিটা গল্প সম্পর্কে প্রত্যেকের নিজেদের একটা দৃষ্টিভঙ্গি থাকে তো। আমি নিজের চরিত্রের সুবিধার্থে এভাবে দেখেছি যে এটা দুটো বিজনেস হাউজের লড়াই। সেখানে একজন আন্ডারডগ একটা বড় বিজনেস হাউজকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এবার কালিদাস ইন্দ্র হচ্ছে সেই বিজনেস হাউজটা যেটা দীর্ঘদিন সামাজিক শিক্ষায়, সম্ভ্রমে প্রতিষ্ঠিত এবং অন্যদিকে একজন ভুঁইফোড়- যার নতুন কিছু করার স্বপ্ন ও ইচ্ছে রয়েছে, তৎকালীন বাঙালি হিসাবে নতুন কিছু করার সাহস রয়েছে, চিরে রেখে দেবো- এই মনোভাবটা রয়েছে- এবার কীভাবে তারা টক্করটা নেয় সেটাই দেখানো হয়েছে ছবিতে। এটা একই সঙ্গে বায়োপিক, ডকুমেন্টরি এবং বাঙালির নস্টালজিয়া এবং বাঙালির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত একটা ছবি।

ভালো থাকার 'বেসিক' মন্ত্র শেখাতে এল রসগোল্লা বন্দনাগীতি!


পরিজা- বাস্তবে কিন্তু আপনি দুষ্টু লোক না হলেও লোকে রজতাভ দত্ত মানেই দুষ্টু লোকের চরিত্রেই আগে ভাবে।
রজতাভ- একটা ব্র্যান্ড এরকম তৈরি হয়ে যায়। 'এই মা খুব ভালো কাঁদেন'- বাংলা ছবিতে আমরা এমন প্রচুর দেখেছি। এবার তিনি তো কান্না ছাড়াও আরও অনেক কিছুই ভাল পারেন কিন্তু সেগুলো সামনে এসে না। কারণ কমার্শিয়াল বাজারে বিক্রির প্রয়োজনে মার্কেট এক এক জনের ওপর এক একটা ট্যাগ তৈরি করে দেয় যাতে বেচতে সুবিধা হয়, সেখানে অভিনেতার কিছু করার থাকে না। আমি ধরো, শ-দুয়েক বাংলা ছবি করেছি। সেখানে রিলিজ হয়েছে ১৫৭-১৫৮টা। বাকিগুলো বিভিন্ন কারণে বান্ডিল হয়ে রয়েছে। তার মধ্যে ৩০% ছবিতে আমি দুষ্টু লোক বা হাসকুটে লোক ছাড়াও বিভিন্নরকম চরিত্রে অভিনয় করেছি। কিন্তু এই দুটো ব্র্যান্ড যেহেতু ভীষণভাবে প্রোডিউসারদের কাছে পপুলার তাই মিডিয়া বা প্রোডিউসারদের কাছে বা কমার্শিয়াল ছবিতে যে ভাবে আমাকে ব্যবহার করতে চাওয়া হয়েছে এই ট্যাগটা আমাকে বেচতে সাহায্য করেছে। শুধু আমাকে বলেই নয়, আমার মতো যারা কমেডিয়ান বা ট্র্যাজিক কুইন বলে বিখ্যাত হয়েছেন তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এটা করে দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয় আমাদের আগের জেনারেশন বা অন্যান্য কলিগদের তুলনায় আমায় অনেক বেশি সুযোগ করে দিয়েছে বিভিন্ন ধরণের চরিত্র করার কিন্তু আসলে এই ট্যাগটা কাজের পরিসর অনেকটা কমিয়ে দেয়। অনেকটা ক্ষতি করে। টলিউড, বলিউড কিংবা হলিউড প্রতিটা ক্ষেত্রেই আমার মনে হয় সেটা হয়। আর শুধু ওই অভিনেতার নয়, এর ফলে ইন্ডাস্ট্রিরও অনেকটা ক্ষতি হয়। লাভ হয় শুধু বিজনেসের।
পাভেল- রনি দাকে আমরা সাধারণত হাসকুটে বা খারাপ লোকের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখলেও এই চরিত্রটা কিন্তু দূর দূরান্ত পর্যন্ত ওই মানুষটা নয়। এই চরিত্রটার আলাদা সম্ভ্রম রয়েছে। ছবির শুরুতে দেখা যাবে কালিদাস ইন্দ্র মানুষটা কিন্তু সেই ভুঁইফোড় আন্ডারডগের কাছে একজন আইডল। নবীনচন্দ্র প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারবে না যে সে তাঁর সংস্পর্শে যাচ্ছে। ব্যাপারটা ঠিক এমন নয় যে ভিলেনকে দমন করে তার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাব। এই ছবিটা আলাদা। আর বাজারের কথা যখন উঠল তাহলে একটা কথা বলি, এই ছবিটার প্রোডিউসার হিসাবে আমি নন্দিতা দি- শিবপ্রসাদ দাকে (উইন্ডোজ) পেয়েছি- আমি ভাগ্যবান। আমাকে তাঁরা একবারও বাজারের কথা বলেননি যে এই চরিত্রটার জন্য একে কাস্ট করো বা একে মানাবে। ছবির প্রথম দিন থেকেই আমি বলেছিলাম হিরো হিরোইন নতুন হবে। কারণ ওই বয়সী স্টার তো পাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া আমি নিজে নতুনদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি। তিন জন কাস্টিং আমি প্রথম থেকে অনড় ছিলাম, যে এর কোনও বি অপশন নেই। এক, রনি দা- কালিদাস ইন্দ্র; দুই, বিদীপ্তা দি- নবীনচন্দ্রের মা; তিন- খরাজ দা- মহেশ ময়রা। এই তিনটে নড়ানো যাবেই না- প্রথমেই ঠিক করে রেখেছিলাম। তাই শুটিং-এর ডেট ঠিক করতে অনেক দেরি হয়েছে। যেহেতু শীতকাল ছিল, খরাজ দার প্রচুর শোয়ের ডেট ছিল। তাই এই তিনটে কাস্টিংয়ে অনড় থাকতে প্রচুর মাথামারি করতে হয়েছে। তবুও ছিলাম। আমি যতদূর জানি, তুলসী চক্রবর্তী মারা যাওয়ার সত্যজিৎ রায় ভূষণ্ডির মাঠ করেননি। আমার ভাগ্য ভাল আমি এই তিনজনকে পেয়ে গেছি। কারণ এখানে এঁরা ছাড়া অন্য কেউ করলে ভাল হত বা অন্য কিছুর কোনও জায়গা এখানে নেই। বাকি যেমন অনেকগুলো চরিত্র অন্য কেউ করতেই পারত, কিন্তু এঁদের তিনজন ছাড়া হত না। যেমন সন্তোষ দত্ত ছাড়া জটায়ু ভাবা যায় না, ঠিক তেমনই।
পরিজা- আর নতুনরা?
পাভেল- নতুনদের মধ্যে জেদটা থাকে। নিজেকে বড় একটা ব্যানারে দেখতে পাবে সেই খিদেটা থাকে। ফলে আমি যতটা প্রাণ দিই, ওরাও দেয়। আমি প্রচুর খাটিয়ে কাজ করাই। ওয়ার্কশপ করাই। সিনিয়র আর্টিস্টরা আমায় সাহায্য করেন। এর জন্য অবন্তিকাকে প্রায় দেড় বছর ওয়ার্কশপ করতে হয়েছে। উজানের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা। ওকেও অবশ্য প্রায় ছয় মাস ওয়ার্কশপ করতে হয়েছে। ছয় মাস না হোক, তিন মাস তো সময় দিতেই হবে। নতুনরা ছাড়া কেই বা এতটা সময় দেবে? আসলে উজান বা অবন্তিকাকে তো কেউ খুব একটা চেনে না। নবীনচন্দ্র, খিরোদমনিকেও কেউ দেখেনি। ফলে চেনা মানুষদের নিয়ে কাজ করলে মানুষ যেমন তাদের ম‍্যানারিজমটা জানে, নতুনদের ক্ষেত্রে সেটা তো হয় না। ফলে গ্রহণযোগ্যতাটা বাড়ে। মানুষ ওদেরকেই নবীনচন্দ্র খিরোদমনি হিসাবে ভাবতে শুরু করবে। ইনফ্যাক্ট আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেছে, খিরোদমনি রোগা হয়ে গেল কীভাবে? সুগার হয়েছিল? বা নবীনচন্দ্রের হেয়ারফল হল কবে?
অবন্তিকা- আমার জেদটা ছিল। আমি ছোট থেকেই কাজ করছি বিভিন্ন ধরণের। এত বড় ব্রেক প্রথম ঠিকই। এবার আমার আগের স্কুলে এগুলো একেবারেই সাপোর্ট করত না। আমাকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে বারবার। ছোট ছিলাম। কষ্ট হত। নিজেকে প্রমান করার জেদটা তখন থেকেই চেপে গিয়েছিল।


6ht611p

অফস্ক্রিন উজান ও অবন্তিকার খুনসুটি।
 

পরিজা- নতুনদের দিয়ে কাজ করানোটা কি ছক ভাঙার জন্য?
পাভেল- একেবারেই। সত্যি কথা বলতে রসগোল্লার বাজেট প্রায় আড়াই- তিন কোটি টাকা। এবার এত বড় বাজেটের একটা ছবি যেখানে কোনও বড় স্টার নেই- যদি রেজিস্টার করে পুরোটাই কন্টেন্টের জন্য করবে। যেখানে বাংলায় ছবি তৈরির আগে প্যাকেজিং নিয়ে ভাবতে হয়, এই ছবিটা রেজিস্টার করলে অনেক জুনিয়র ও সিনিয়র প্রযোজক ও পরিচালকরা বুঝবে যে বড় বাজেটের ছবিতে শুধুমাত্র বড় স্টার লাগে না। আমরা মুখে মুখে বলি স্ক্রিপ্ট ইজ দ্য রিয়্যাল হিরো, কিন্তু সবচেয়ে কম টাকা পায় স্ক্রিপ্ট রাইটার। তাই এই ছবিটা সেই ছকটাই ভাঙতে চাইছে।
পরিজা- এবার অন্য প্রসঙ্গে আসা যাক। অবন্তিকা নাকি পাভেল দাকে খুব ভয় পায়!
অবন্তিকা- আমি শুট শেষ হওয়ার পর থেকে কোনও দিন পাভেল দাকে নিজে ফোন করিনি। এমনকি হোয়াটস‍্যাপেও একটা টেক্সট করিনি। কারণ জানি একটা কিছু লেখার জন্যও প্রচুর বকা খেতে পারি। হয়তো কোনও কারণ নেই। পাভেল দার মাথা গরম আছে। আমি ঝাড়টা খেয়ে যাব।
রজতাভ- আমি মাঝে একটা কথা বলি। প্রতিভার দিক থেকে না হলেও বয়সের দিক থেকে পাভেল কিন্তু একটা ছানা।
উজান- (হেসে) সেই ছানাতেই তো রসগোল্লা তৈরি হয়।
রজতাভ- সেটা অন্য ব্যাপার। এবার ওর নিজের থেকে ছোট দুটো বাচ্চাকে পেয়েছে। তাই সেখানে খবরদারিটা এমন করছে। দাদাগিরিটা একেবারে সাপটে খাচ্ছে পাভেল। কাজেই এমন হালুম ও হয়ে রয়েছে যে এদের দু'জনকে আর ট্যা-ফু করতে দেওয়ার জায়গাই রাখেনি।
অবন্তিকা- একবার যদি বলে কালকের মধ্যে আমার এটা দরকার। তো সেটা তুমি মরে গিয়ে করবে না বেঁচে থেকে করবে না শেষ নিঃশ্বাস অবধি করেই যাবে সেটা তোমার ব্যাপার।
রজতাভ- (হেসে) জীবনে ওর ওপর যত র‍্যাগিং হয়েছে, তার পুরো শোধ পাভেল এই ক'মাসে তুলে নিয়েছে।
উজান- সত্যি বলতে আমরাও পাভেল দাকে যথেষ্ট জ্বালিয়েছি। প্লেব্যাক দেখার জন্য ডিমান্ড করেছি। সেট থেকে বেরিয়ে এসে মনিটরে 'এই দেখাও দেখাও' করেছি। তখন পাভেল দা 'এই যা এখান থেকে' বলে বকাও দিয়েছে রেগে গিয়ে।
অবন্তিকা- দাদাগিরিটা একেবারে ফুলফর্মে হয়েছে।
উজান- আসলে বয়সে কাছাকাছি আমরাই। আর তো কেউ ছিল না।
পাভেল- আমাকে নিয়ে যতটা রাগীটাগী বলা হয় ততটাও আমি আসলে নই।
উজান- আহা রে!
পাভেল- আসলে সেটে যখন কাজ করি ২৫০ জনের ইউনিট চলে এবং অনেকগুলো আলাদা ডিপার্টমেন্ট। আর আমার স্বভাবটা হচ্ছে আমার নাকটা ভোলদেমোরের নাকের থেকেও বড়।

টাপুর টুপুর বৃষ্টিতে জমে ক্ষীর নবীনচন্দ্র ও খিরোদমনির প্রেম!


পরিজা- আর উঁচুও!
পাভেল- হ্যাঁ। তাই পছন্দ না হলে খুব ঝামেলা করি। তাই অন ফ্লোর ওটা চলতে থাকে।
অবন্তিকা- আমি আর উজান দা ঠিক করেছি পাভেল দা হল মিষ্টি। রসগোল্লা। কিন্তু শুকনো লঙ্কা ফ্লেভার।
পাভেল- কাঁচা লঙ্কা। এই হেট শুকনো লঙ্কা। কাঁচা লঙ্কা বল।
উজান- কেউ যদি এমন বড় বাজেটের একটা ছবি, এত বড় সেট, এত জুনিয়র আর্টিস্ট সমস্তটা তিরিশ দিন সামলে মাথা ঠান্ডা রেখে অন্তত এ শহরে ছবি করতে পারে তাকে আমি দু-তিন হাড়ি রসগোল্লা খাইয়ে দেবো। কারণ এটা স্বাভাবিকভাবে কোনও পরিচালকের পক্ষেই সম্ভব নয়।
পাভেল- আর একটা বিষয় হল আমাদের সেটের প্রত্যেকেই প্রতিদিন প্রচন্ড খেটে কাজ করতাম। রনি দা বা অন্যান্য সিনিয়র আর্টিস্ট প্রত্যেকে প্রতিদিন ১২ ঘন্টা ১৪ ঘন্টা কাজ করতো, যেটা সাধারণত খুব প্রয়োজন ছাড়া করেন না। খরাজ দা তাঁর কোনও ছবিতে ১৩-১৪ দিন রোজ ১৬ ঘন্টা করে কাজ করেছে বলে তো আমার মনে হয় না। তার জন্য কোনও রাগ, গ্লানি কিছুই ছিল না। শুধু মাঝে মধ্যে বলে উঠতো 'মেরে ফেলবি রে আমায়, মেরে ফেলবি'। আমার মনে আছে, রনি দার যেদিন শেষ শুট ছিল, সেদিন শুট শেষ হওয়ার পর মেক আপ নিয়েই ফ্লোরে আমাদের সঙ্গে বসে ২ঘন্টা গল্প করেছিল। আমার আসলে একটু বায়াসডনেস আছে। যেটা আমার চাই সেটা তৈরি করার জন্যই তো চিৎকার, চেঁচামেচি, ঝামেলা কারণ কম্প্রোমাইজ করলে সেই ফ্রেমটা তো আর আসবে না। তাই রেগে যাই। শুটের পর খরাজ দা একদিন ফ্লোরেই মেক আপ তুলছিল। এবার দেখি তাঁর মাথার চুল কলপ, শার্ট পরে আছে। এবার দেখেই আমার খুব রাগ হয়েছিল। আমি বেমক্কা সব বলে ফেলি। আমি খরাজ দাকে দুম করে বলে বসলাম, 'তোমায় খুব বিচ্ছিরি দেখাচ্ছে। দয়া করে আমার সামনে তুমি আর এইভাবে আসবে না।' খরাজ দা একটু শুধু ঘাবড়ে গিয়ে কিছুক্ষণ থেমে 'ঠিক আছে' বলে চলে গিয়েছিল। আর তারপর থেকে শুট চলাকালীন কোনও দিন মেক আপ ছাড়া আমার সামনে আসেনি। শুট শেষ হলে মেক আপ তুলে কাউকে জিজ্ঞাসা করতো, 'পাভেল এখানে নেই তো?' জিজ্ঞাসা করেই টুক করে বেরিয়ে যেত। এরপর আমি একদিন ফোন করে জিজ্ঞাসা করেছিলাম 'আমার একটু দরকার। আমি কি আসবো?' আমায় তখন বলেছিল 'আমি কি উইগটা ডাকিয়ে নেবো?'
উজান- আমিও তো স্বাভাবিকভাবেই ফতুয়া পরে বাড়ি থেকে আসতাম না। জিন্স, জ্যাকেট থাকতো। পাভেল দা আমাকে দেখেও বলতো এসব কি?
অবন্তিকা- হ্যাঁ, চুল একটু বড় হলেও বলতো চুল কাট!

আগামী বুধবার প্রকাশিত হবে দ্বিতীয় তথা শেষ পর্ব।


 


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement