হোমআঞ্চলিক

সত্যজিতের গোয়েন্দা, সত্যজিতের নায়ক.......

  | September 03, 2018 19:22 IST (কলকাতা)
Uttam Kumar

সাররিয়ালিস্টিক স্বপ্নদৃশ্য নির্মাণে সত্যজিৎ যেভাবে ব্যবহার করেছেন উত্তমকে বা বলা ভালো একজন নায়ককে তা বাংলা সিনেমায় অন্যতম মাইলস্টোন

নায়ক আর অভিনেতা এই দুই শব্দের মধ্যে সরু একখানা আলপথ। এই পথ দিয়েই হেঁটে যাচ্ছেন দীর্ঘদেহী পরিচালক। আসলে নিছক হেঁটে যাচ্ছেন না, আবিষ্কার করছেন। ইতিউতি সুযোগ পেলেই কুড়িয়ে নিচ্ছেন ফ্রেম, ধুলো ঝেড়ে নিচ্ছেন স্টোরিবোর্ডের। একজন নায়ক আর একজন পরিচালক বস্তুত পৌঁছে যাচ্ছেন এমন এক চলচ্চিত্রের গহনে যেখানে নায়কের পর্দা সরিয়ে আমরা আবিষ্কার করছি একজন অভিনেতাকে। পরিচালকের নাম সত্যজিৎ রায়, অভিনেতার নাম উত্তম কুমার। যদিও মানুষের কাছে ‘হিরো’ মানেই উত্তম, মানুষের কাছে তখন উত্তম হিস্টিরিয়াও বটে। অথচ একের পর এক সিনেমায় সত্যজিৎ কাজ করে চলেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সমান্তরাল চলছে অন্যধারার সিনেমা আবার মূল ধারার গল্পও।

1966 সালে প্রথম সত্যজিতের সিনেমায় আমরা পেলাম উত্তম কুমারকে। সিনেমার নাম ‘নায়ক’। নায়কের চরিত্রে উত্তম ছাড়া কারোর কথাই ভাবতে পারেননি সত্যজিৎ। সেই অর্থে উত্তম কুমারের জীবনেও এমন ধরণের সিনেমা এই প্রথম। নায়ক আসলে ওই আলপথ ধরে যাত্রার মতোই। কলকাতা থেকে দিল্লির 24 ঘণ্টার যাত্রা অথবা ছাপোষা মধ্যবিত্ত যুবকের ‘হিরো’ হয়ে ওঠার যাত্রা, অথবা গ্রুপ থিয়েটার ছেড়ে দ্রুত রূপোলি পর্দার মুখ হয়ে ওঠা…. সমস্ত যাত্রা পথই আসলে বিবর্তনের গল্প বলে। অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের এই গল্প শুধু উত্তমের জন্যই, এই গল্প কেবল উত্তমেরই হতে পারে। সাতটি ফ্ল্যাশব্যাক আর দু’টি দ্বপ্নদৃশ্যের মাধ্যমে ট্রেন সফর আর মনস্তাত্বিক সফরের এই যে উচাটন এ ভূমিকায় ‘নায়ক’ হয়ে উঠতে পারেন উত্তমই। প্রথম দিকে, বার্গম্যানের ওয়াইল্ড স্ট্রবেরিজ বা হিচককের নর্থ বাই নর্থ ওয়েস্ট সিনেমার নানান দৃশ্যের সঙ্গে ‘নায়কের’ মিল খুঁজে পেয়েছিলেন সমালোচকেরা। যদিও বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অন্যধারার সিনেমার তালিকায় ‘নায়ক’ বরাবরই স্বতন্ত্র। সাররিয়ালিস্টিক স্বপ্নদৃশ্য নির্মাণে সত্যজিৎ যেভাবে ব্যবহার করেছেন উত্তমকে বা বলা ভালো একজন নায়ককে তা বাংলা সিনেমায় অন্যতম মাইলস্টোন।

 

nsi2r9tg

নায়ক সিনেমার পোস্টার
Photo Credit: গুগল


গোয়েন্দা বলতেই এখনও সত্যজিতের সৌমিত্রের কথাই মনে আসে। কিন্তু সত্যজিৎ নিজে গোয়েন্দা সিনেমা বানাতে গিয়ে প্রথম বেছে নিয়েছিলেন উত্তমকুমারকেই। গোয়েন্দা বলতেই ছিপছিপে তীক্ষ্ণ চেহারার লম্বা ব্যক্তিত্বের কথাই মনে আসে আমাদের। তবু, ব্যোমকেশের চরিত্রে সেই তথাকথিত ধারণা ভেঙেই উত্তমকুমারকে হাজির করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। নায়ক মুক্তি পাওয়ার ঠিক পরের বছরই মুক্তি পায় শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়েন্দা ব্যোমকেশের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘চিড়িয়াখানা’। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরষ্কার (তৎকালীন ভারত পুরষ্কার) পান উত্তম কুমার, সত্যজিৎ পান সেরা পরিচালকের পুরষ্কার। যদিও শোনা যায় নিজে এই চলচ্চিত্র নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলেন না সত্যজিৎ। পরে নিজের পরিচালিত দু’টি গোয়েন্দা গল্পই ছিল তাঁর নিজের তৈরি গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদাকে নিয়ে। 70’এর দশকে মুক্তি পায় তাঁর নিজের লেখা গোয়েন্দা গল্পের সিনেমা ‘সোনার কেল্লা’ ও ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’।

mc6mv8o

চিড়িয়াখানার একটি দৃশ্যে উত্তমকুমার
Photo Credit: গুগল

1948 থেকে সিনেমায় অভিনয়ের যাত্রা শুরু উত্তমের, আজ 2018, এই সত্তর বছরে নায়ক থেকে মহানায়কের পথ অতিক্রম করেছেন তিনি। উত্তম বলতেই সপ্তপদী, উত্তম বলতেই হারানো সুর, দেওয়া নেওয়া, উত্তম বলতেই অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি….. তবু এর মাঝে সত্যজিত যেভাবে আবিষ্কার করেছিলেন উত্তমকে তা চিরভাস্বর। সিনেমায় নায়কের তথাকথিত ইমেজ কোথাও ভেঙে বা কোথাও সেই ইমেজকেই ব্যবহার করে যে উত্তমকে উপহার দিয়েছেন সত্যজিৎ তা শুধু মহানায়কের জীবনেই নয় ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে নতুন মোড় তৈরি করে ফেলেছে। সেই মোড়ের ঠিক মুখেই দাঁড়িয়ে আজ মহানায়কের জন্মদিনে আমাদের ফিরে দেখা…..   



বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement