হোমআঞ্চলিক

'এরপর একসঙ্গে কাজ করলে একে অপরকে মেরেই ফেলবো হয় তো': Oh! MOTHER-এ মায়ের সঙ্গে কাজ করে একথা কেন বললেন সাকেত?

  | December 13, 2018 15:50 IST (কলকাতা)
Addatimes

মা ও ছেলে। (সৌজন্যে ফেসবুক)

গত মাসের ২৩ তারিখ আড্ডাটাইমসে সম্প্রচার শুরু হয়েছে সাকেত বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত নতুন ওয়েব সিরিজ Oh! mother।

গত মাসের ২৩ তারিখ আড্ডাটাইমসে সম্প্রচার শুরু হয়েছে নতুন ওয়েব সিরিজ Oh! mother। পরিচালনা করেছেন সাকেত বন্দোপাধ্যায়। গল্পের পটভূমি তৈরি হয়েছে টিনেজ প্রেগনেন্সির মতো সিরিয়াস বিষয়কে কেন্দ্র করে। কিন্তু তার সঙ্গে হাস্যরস মিশিয়ে সিরিয়াস বিষয়কেও লঘুভাবে পরিবেশন করেছেন পরিচালক। অভিনয় করেছেন বিদীপ্তা চক্রবর্তী, অনির্জিত রায়, বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়, সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য (বাবলা), ডিউক বসু, ঋদ্ধিমা ঘোষ প্রমুখ। চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন পরিচালকেরই মা- সুদেষ্ণা রায়। মা-ছেলের যুগলবন্দী নিয়ে উভয়েই যথেষ্ট উত্তেজিত হলেও এরপর একসঙ্গে কাজ করার নামেই ভ্রু কুঁচকেছেন দু'জনেই! মা-ছেলে ও ছবির প্রধান তরুণ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে এমনই অভিজ্ঞতা সঞ্চার করে এসে লিখলেন পরিজা কর্মকার।

পরিজা: মা-ছেলের একসঙ্গে কাজ।
সুদেষ্ণা: হ্যাঁ। Oh! Mother এর স্ক্রিপ্ট আর ডায়লগ আমার লেখা।
পরিজা: মা ঠিক কতটা সাহায্য করেছে ছেলেকে?
সুদেষ্ণা: আমার ছেলে যখন চলচ্চিত্রের জগতে প্রথম এসেছে আমি বলেছিলাম আমার কাছে কাজ শিখো না। আমার পক্ষে নিজের ছেলেকে কাজ শেখানো খুব কঠিন কাজ। তখন ও অপর্ণা সেনের কাছে যায়। তাঁকে প্রশ্ন করার মতো ধক ওর ছিল না। তো অপর্ণা সেনের কাছে দুই বছর চলচ্চিত্র তৈরির ও যা যা শিখেছে, তারপর একটা সময় আমি ওকে বলেছিলাম 'তুই কি ফিল্ম স্কুলে যাবি?' ও তখন বলেছিল 'রীনা মাসির থেকে ভাল ফিল্ম স্কুল আর হতে পারে না।' তারপর ও মৈনাক, বিরসা ও আরও অনেকের সঙ্গেই কাজ করেছে। ও আসলে অনেকটা আমার মতো। যে যা বলে সবটা চেষ্টা করে দেখে। তো সেটা অনেকটাই সাহায্য করে। Oh! Mother এর আগে ও একটা নাটক ভেবেছিল। সেখানে আমি ওর আন্ডারে অভিনয় করেছিলাম। এক্ষেত্রে ও আমাকে বলল, 'তুমি এটা লিখে দাও। বাংলা ডায়লগগুলো করে দাও।' আমি ডায়লগগুলো করার পর ওর মনের মতো না হলেই বলতো 'তুমি পারছো না'। তখন আমি বললাম, 'বাংলা তো এটাই।' তারপর সেটা বদলে 'বেংলিশ' করে করা হল জিনিসটা। তাছাড়া, কাস্টিং, টেকনিশিয়ান সমস্তটাই ও নিজে করেছে। আমায় শুধু যেটুকু বলেছে আমি সেইটুকুই করেছি। ও যেমন ডায়লগ করতে বলেছে আমি আমার সাধ্য মতো সেরাটা করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ইপির (এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার) মতো বাড়ি মানে একটা স্কুল খুঁজে দিতে বলেছে আর আমি চারিদিক খুঁজে বেড়িয়েছি। 

r4g83rm8

পরিচালকের সঙ্গে Oh! Mother-এর কাস্ট। (সৌজন্যে ফেসবুক)


সাকেত: না শেষে বাবলা সেটা খুঁজে দিয়েছে। 
সুদেষ্ণা: হ্যাঁ, ওর একটা হোটেল, রেস্তোরাঁ এইসব প্রয়োজন ছিল। আমি একটু জোগাড়ে ধরণের মানুষ। সেগুলো ওকে আমি জোগাড় করে দিয়েছি। তবে পুরোটাই ওর আর ওর টিমের কৃতিত্ব। ও নিজের টিম নিজে বেছে নিয়েছে। পুরো কৃতিত্ব ওদেরই।
পরিজা: আমরা প্রায়ই একটা কথা বলতে শুনি, মায়েরা ঠিক বোঝে সন্তান কী চায়। এক্ষেত্রেও কি ব্যাপারটা তাই?
সাকেত: হ্যাঁ। বিরোধিতা করেনি। এই স্ক্রিপ্টটা কোনও সাধারণ মাকে দেওয়া হলে পাঁচ পাতার পর সেটা বন্ধ করে রেখে দিত।
সুদেষ্ণা: এটা কি কমপ্লিমেন্ট?
সাকেত: হ্যাঁ একেবারেই কমপ্লিমেন্ট।
সুদেষ্ণা: আমাকে এটা বলে দিতে হবে তো!
সাকেত: মা শুধু ভাষার ক্ষেত্রে বলেছে, ভাষাটা ঠিক শুদ্ধ নয়। কিন্তু আইডিয়াটা বেশ ভাল। পুরোটা হয়ে যাওয়ার পরেও কয়েকটা রিজার্ভেশন ছিল। যদিও সেটা থাকা ভাল। ভাষা, ফটোগ্রাফি ইত্যাদি নিয়ে আপত্তি প্রথমে থাকলেও ফাইনাল প্রোডাক্টটা দেখার পর সাপোর্ট করেছে আমায়। বলেছিল, "লোকজন ভাল খারাপ দুটোই বলবে। কিন্তু বিশ্বাস করো, এটা ভালই হয়েছে।" সেটা ইম্পর্ট্যান্ট ছিল আমার কাছে।


ইশা অম্বানির বিয়েতে স্টাইল স্টেটমেন্টে নজরকাড়া বচ্চন পরিবার


পরিজা: সে তো বুঝলাম। কিন্তু এমন একটা প্লট। আইডিয়া কোথা থেকে এল?
সাকেত: আসলে একটা সিরিয়াস ইস্যু নিয়ে খিল্লি করার খুব ইচ্ছা ছিল। তারপর সিরিয়াস ইস্যু লিখে গুগল করে পেলাম টিন প্রেগনেন্সির মতো বিষয়। তারপর সেটা নিয়েই প্লট ডেভেলপমেন্ট হল।
সুদেষ্ণা: আজকের প্রজন্ম তো, ওরা সাবজেক্টটাও গুগল করে! 
পরিজা: আর কাস্ট নির্বাচনের ক্রাইটেরিয়া কী ছিল?
সাকেত: প্রথমত, নতুন পরিচালক হওয়ায় আমি কাস্ট নিয়ে উচ্চাকাঙ্খী ছিলাম না। দ্বিতীয়ত, আমি দেড় বছর আগে এটা লেখার সময় ইনস্টাগ্রামে খুঁজছিলাম। অনির্জিতকে সেখান থেকেই খুঁজে পাই। 
পরিজা: ইনস্টাগ্রামে?
সাকেত: হ্যাঁ। ওকে খুঁজে বের করার সময় আমার মাথায় ছিল এমন একজনকে চাই যে অভিনয় করতে পারে আর কনভেনশনালি গুড লুকিং নয় বা অদ্ভুত দেখতে।
পরিজা: অদ্ভুত দেখতে?
সুদেষ্ণা: অদ্ভুত নয়। সুইটলি ডিফারেন্ট। এখানে আর একটা জিনিস দেখো, হি ইজ ডুইং ইট ফর ওয়েব, হিস আইডিয়া ইজ ফ্রম গুগল অ্যান্ড হিজ কাস্টিং ইজ ফ্রম ইনস্টাগ্রাম। সো, দ্যাট ইজ ডেফিনিটলি এ ট্রেন্ড।
সাকেত: প্রথম জনকে (অনির্জিত) পাই ইনস্টাগ্রাম থেকে। দ্বিতীয় জনকে (বাবলা) পাই আড্ডাটাইমসের অন্যান্য ওয়েব সিরিজের থেকে। তৃতীয় জনকে (ডিউক) পাই আড্ডাটাইমসেরই টক শো মানে ফেসবুক থেকে। বিবৃতি আর বিদীপ্তা দির ব্যাপারটা শুধু আলাদা। বিদীপ্তা দির ক্ষেত্রে যে কথাটা না বললে চলে না, আমি স্ক্রিপ্টটা অনেককেই পড়িয়েছিলাম। বিরসা দার সঙ্গে যেহেতু প্রচুর কাজ করি, তাঁকেও পড়াই। পুরোটা পড়ে প্রথমেই বিরসা দা বলেছিল মা-টা বিদীপ্তা। তো সেটা সেখানেই লক হয়ে গিয়েছিল।

ad5l2oo

Oh! Mother-এর পোস্টার। (সৌজন্যে ফেসবুক)


পরিজা: গল্পের প্লটটা তো সৌরভের (অনির্জিত) জীবনের তিন মহিলা, দুই বন্ধু ও তাঁদের নিয়ে বিভিন্ন সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি।
সাকেত: ওরা তিনবন্ধু আসলে মিডিল বেঞ্চার্স।
সুদেষ্ণা: আমাদের সমাজে বা বিভিন্ন সিরিয়ালে শুধু দেখি হয় হিরো নাহলে ভিলেন। ওরা তিনজন হল তার মাঝামাঝি। সাধারণ। যাদের কোনও বন্ধু হয় না, নিজেরাই নিজেদের বন্ধু। কিন্তু ওরা হল সাধারণ ভাবেই অসাধারণ। 
সাকেত: এবার এই মিডিল বেঞ্চার ছেলেটা একটা দুর্দান্ত মেয়েকে পেয়ে গেছে। সেই মেয়েটার জীবনে অনেক সমস্যা আছে, ট‍্যানট্রাম আছে। তার জন্য অনেক কিছু করতে হয় ছেলেটাকে। কিন্তু ছেলেটা সব সহ্য করে নেয় কারণ সে মনে করে, পেয়ে গেছি, এর চেয়ে ভাল আর কিছু আমি পাবো না। 
সুদেষ্ণা: তবে ঋদ্ধিমা আসার পর সেই আর কাউকে পাবনা ব্যাপারটা একটু নড়ে যায়। কিন্তু পাবলো আর সৌরভের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলতে থাকে ঋদ্ধিমাকে নিয়ে। কিন্তু ও আসলে এমন একটা ছেলে যাকে সবার ভালো লাগবে।

দীপিকা-প্রিয়াঙ্কা নয়, এবছর গুগলে কোন সেলিব্রিটির নাম সবথেকে বেশি খোঁজা হয়েছে জানেন?

 
পরিজা: এবার অনির্জিত বলুন, নিজের চরিত্রটা আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? 
অনির্জিত: সৌরভ আসলে এমন একটা ছেলে যে মায়ের কাছে থেকে নিজের প্রেমিকার সমস্ত বায়না আবদার সমস্ত মেটানোর চেষ্টা করে। এবার তার জন্য মায়ের কাছে বকা খায়। তারমধ্যে দিদা পরামর্শ দেয়, যেগুলো আপাতদৃষ্টিতে ভাল মনে হলেও আসলে খুবই বাজে। তো এই সব কিছুর ওপর আবার দুই বন্ধু। তাদের কাছে সমস্যার সমাধান করতে গেলে তারা দু'জন সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। 
বাবলা: হ্যাঁ,যেমন হয় বেস্টফ্রেন্ডগুলো। সমাধান করতে চায়। কিন্তু পারেনা।
অনির্জিত: সৌরভের জীবনের চতুর্থ মহিলা চরিত্র হল পাবলো। 
বাবলা: আমি এটা বিশ্বাস করতেও পছন্দ করি। কারণ আমি সমস্যা বাড়ালেও ও প্রেমিকার মতোই আমার কাছেই আবার আসে। এক সময় একটা সিনে আমি ওর সঙ্গে কথা বলি না। আর সেটা দেখে ও মুখ ঘুরিয়ে যখন চলে যায়, আমি বলি, "কি রে আমি তোর সঙ্গে কথা বলি না, তোর কিছু যায় আসে না?" আমার মনে হয় না আমার কোনও ছেলে বন্ধু এটা আমার সঙ্গে কোনদিন করবে! আমাদের সম্পর্কটা দারুন। আমি সব সময় চেষ্টা করি ওর ভাল হোক। কিন্তু সেটা পারি না। কারণ আমার মানে পাবলোর মাথায় বুদ্ধি নেই! পাবলো ভুলভাল পরামর্শ দেয়, কারণ ও খুব তাড়াতাড়ি ইনফ্লুয়েন্সড হয়। কারণ ওদের তৃতীয় যে বন্ধুটা তার বেঁচে থাকারই কোনও অধিকার নেই। সাংঘাতিক খারাপ পরামর্শ দেয়।
সাকেত: তৃতীয় বন্ধুটা এমন একজন যে বলে, "জীবনটা খুব খারাপ? ঝাঁপ দে।" আর পাবলো এমন যে প্রথমে বলবে, "না না। ঝাঁপ দিলে ব্যথা লাগবে।" কিন্তু দু-তিনবার ওকে বোঝানোর পর বলবে "হ্যাঁ, ঝাঁপ দিয়ে দেখতে পারিস।"
ডিউক: আমি এমন একটা চরিত্র যে জীবনটা উপভোগ করতে চায়। সব সময় হাইপার অ্যাক্টিভ, পার্টির মুডে থাকে। ওর জীবনে কোনও ট্র‍্যাজেডি হবে না। হলে তার জন্য ড্রাগস আছে। আর যখন নিজে বোর হয়ে যায়, তখন নিজের বন্ধুদের দিয়ে অদ্ভুত জিনিস করায়। 
সুদেষ্ণা: এক্ষেত্রে একটা কথা বলি, এই সিরিজটা একেবারেই ড্রাগের প্রচার করছে না।
ডিউক: হ্যাঁ, আমার চরিত্রটা সবার কাছে সবচেয়ে বেশি মার খায়। এটা দেখার পর আর কারও বোধ হয় ড্রাগস নেওয়া উচিত না।

স্মিতা পাতিলের বত্রিশতম মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগে ভাসলেন স্বামী রাজ বব্বর ও ছেলে প্রতীক


পরিজা: আর বিবৃতির চরিত্র? ঠিক কতটা ঘ্যানঘ্যানে দিয়া?
বিবৃতি: ওরা ঠিকই বলেছে। দিয়ার চরিত্রটা বড্ড ঘ্যানঘ্যানে। ওরা আমাকে সেটা করতেও দেখেছে। আমি অভিনয় করতে গিয়ে বুঝেছি, না সত্যিই মেয়েটা এমনই হতে পারে। আর ওরা প্রত্যেকে সেটা সহ্যও করেছে। খুবই ইরিটেটিং একটা মেয়ে। পেইন ইন দ্য বডি। কিন্তু টু অ্যান এক্সটেন্ট, ইমম‍্যাচিওর। কারণ লাইফে গাইডেন্স নেই। শুধু নিজের শাশুড়ির সঙ্গেই লয়‍্যাল। মা বলে ডাকে। হয় তো দিয়ার লাইফের অ্যাঙ্কর সেই। 
সুদেষ্ণা: দিয়া হল ইরিটেটিংলি লাভেবল। ওর মা বাবা ওকে যথেষ্ট সময় হয় তো দেয়নি। তো ও আসলে অ্যাটেনশন সিকিং একটা ক্যারেক্টার। এগুলো দেখার পর অ্যানালাইজ করা যাবে। আর বিদীপ্তা এমন একজন মা যে নিজের ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দিয়াকে বুকে টেনে নেবে। অর্থাৎ মেল বন্ডিংটার পাশাপাশি ফিমেল বন্ডিংটাও এখানে দেখানো হয়েছে।
পরিজা: সৌরভের দুই বন্ধুর সঙ্গে প্রেমিকার ইকুয়েশনটা কেমন? 
অনির্জিত: অবশ্যই প্রেমিকা এদের পছন্দ করে না।
সুদেষ্ণা: পছন্দ করার মতো বন্ধু এরা একেবারেই নয়।
পরিজা: বিদীপ্তা চক্রবর্তীকে আমরা যে রূপে দেখতে পেয়েছি, চুলটা একটু অন্যরকম বা পোশাক- হঠাৎ এমন একটা লুক- আইডিয়াটা কীভাবে এল?
সুদেষ্ণা: (হেসে) তুমি আমাকে দেখেছো? চুল নিয়ে কতরকম এক্সপেরিমেন্ট আমি তো নিজেই করি!
সাকেত: বিদীপ্তা দিকে একটা লুকের মধ্যে বেঁধে ফেলা হয়েছে। ওর তিন ধরনের হেয়ার স্টাইল ঘুরে ফিরে আসে।
সুদেষ্ণা: সিরিয়ালে বিদীপ্তাকে বড় বউ, মেজো বউ, ছোট বউ এর মধ্যেই ঘুরে ফিরে দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তার বাইরে একটা পুরোপুরি অন্যরকম লুকে এখানে পেয়েছি। আর খুব সুন্দরভাবে জিনিসটাকে ও ক্যারি করেছে। মা হলেও এখানে বিদীপ্তা একেবারে অন্য ধাঁচের মা। 
পরিজা: বিদীপ্তা চক্রবর্তীর চরিত্রটা এমনভাবে তৈরির আইডিয়াটা কথা থেকে এল?
সাকেত: দেখো, আমার জীবনেও বিশেষ করে মা আর দিদা এই দু'জনই প্রচন্ড ডমিনেটিং দুটো চরিত্র। 
সুদেষ্ণা: তারপর অপর্ণা সেন, যিনিও সমান ডমিনেটিং। তাছাড়া ওর স্কুলের ইংরেজির দিদিমণি, তিনিও এমনই একজন ডমিনেটিং মহিলা ছিলেন। 
সাকেত: আমি নিজের জীবনেই প্রচুর ডমিনেন্ট ইনফ্লুয়েন্স পেয়েছিলাম। আমরা সব জায়গায় পুরুষকে দেখি ডমিনেন্ট, আর এক্ষেত্রে দেখা যাবে মহিলারা পুরুষকে ডমিনেট করছে। 
পরিজা: মা দিদা না হয় বুঝলাম। কিন্তু বিবৃতির চরিত্রটা?
সাকেত: (হেসে) আমার জীবনে বিবৃতির মতো অনেককে দেখেছি। অ্যাটেনশন চায়, সময় চায়, আদর চায় আরও অনেক কিছু চায়। আর না পেলে ঘ্যানঘ্যান করে, সমস্যা তৈরি করে- এমন মেয়ে আমাদের সবার জীবনেই আমরা দেখেছি। আর ওর মতো ভাল দেখতে মেয়ে সৌরভ আর পাবে না বলেই সবটা সহ্য করে। 
বিবৃতি: আমার চরিত্রটা বোধ হয় কাল্পনিক।
সাকেত: ও! আর বাকিগুলো নয় বলছিস?
বিবৃতি: বাকিদের নামগুলো সিমিলার। কিন্তু আমার নামটা কোথা থেকে এসেছে সেটাও বলা যাবে না।
সাকেত: আসলে সৌরভ, পাবলো, ইজে- তিনটেই আমার তিনটে বন্ধুর নাম। শিপ্রা- মানে বিদীপ্তা দির নাম, সেটা আমার বন্ধুর মায়ের নাম। আর যেদিন লিখতে বসেছিলাম তার আগের রাতে আমরা এক বোতল ওয়াইন খেয়েছিলাম, যেটার নাম ছিল দিয়া। (হেসে) তো সেখান থেকে বিবৃতির নামটা এসেছে। 

gv0jqteg

Oh! Mother-এর পোস্টার। (সৌজন্যে ফেসবুক)


পরিজা: আর সৌরভ কি তাহলে পরিচালক নিজেই?
সাকেত: আসলে সৌরভ, পাবলো, ইজে এমন মোট ছ'টা বন্ধু আছে আমার। নামের পাশাপাশি আমার মোট ছ'টা বন্ধুর চরিত্রকে একসঙ্গে ঘ্যাঁট তৈরি করে প্রত্যেকের মধ্যে বসানো হয়েছে। তাই কেউই পুরোপুরি কারও মতো না। (হেসে) আর আমিও একেবারেই সৌরভ না।
পরিজা: আর ট‍্যানট্রাম দেওয়াটা?
সাকেত: সে তো সবাই দেয়। বিবৃতি নিজেও দেয়।
বিবৃতি: হ্যাঁ। কিন্তু আমি তো সুইটলি দিই। কেউ না মানলে আমি 'অ্যাঁ' বলে ছেড়ে দিই। কিন্তু দিয়া সাংঘাতিক। 
সাকেত: আমরা তো ওয়ার্কশপ করতাম। তাই সবার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে তাঁদের চরিত্রগুলো ডেভেলপ করা হয়েছে। 
বিবৃতি: তবে বিবৃতি মোটেই দিয়ার মতো না।
সুদেষ্ণা: হ্যাঁ, বিবৃতি আর দিয়া আলাদা।
বিবৃতি: যে পুরোপুরি দিয়ার মতো সে হল বাবলা। (হেসে) পাবলো না, বাবলাই।
সুদেষ্ণা: আড্ডাটাইমসে গত মাসের ২৩তারিখ স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে। আর এখনও পর্যন্ত যত জন মানুষ এটা দেখেছে সেটা দেখে তো আমার হিংসা হচ্ছে।
বিবৃতি: ইউ আর পার্ট অব ইট।
সুদেষ্ণা: হ্যাঁ নিশ্চয়ই। আমার প্রচন্ড গর্ব হচ্ছে। আর ও তো এবার লিমিটটা সেট করে দিয়েছে!
পরিজা: মা-ছেলে তো তাহলে এখন কম্পিটিটর!
সুদেষ্ণা: অবশ্যই। তবে হেলদি কম্পিটিশন। 
পরিজা: একসঙ্গে পরের কাজের প্ল্যান হয়েছে?
সুদেষ্ণা: হ্যাঁ, আমি তো আমার প্ল্যান করেছি। ও নিজের কী প্ল্যান করেছে তা আমি কি জানি!
সাকেত: কোল‍্যাবোরেশনের কোনও প্ল্যান নেই। (হেসে) এরপর একসঙ্গে কাজ করলে একে অপরকে মেরেই ফেলবো হয় তো!


 


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement