হোম

তেলেঙ্গানা-উন্নাও কাণ্ডে রাগে ফুটছে কলকাতা, কী বলছেন শহরের বিশিষ্টরা?

  | December 07, 2019 17:51 IST (কলকাতা)
Telengana

রাগে ফুটছে সবাই

কামদুনি-নির্ভয়া কাণ্ডকেও ভুলতে পারেনি তিলোত্তমা। তেলেঙ্গানা-উন্নাও তো কাঁচা, দগদগে ক্ষত। মেয়েরা তাহলে কোথায় নিরাপদ? সভ্যতা এগোচ্ছে না পেছোচ্ছে!

কামদুনি-নির্ভয়া কাণ্ডকেও ভুলতে পারেনি তিলোত্তমা। তেলেঙ্গানা (Telengana)-উন্নাও তো কাঁচা, দগদগে ক্ষত। মেয়েরা তাহলে কোথায় নিরাপদ (safety of the girls)? সভ্যতা এগোচ্ছে না পেছোচ্ছে! ক্ষুব্ধ প্রশ্ন সবার মনেই। কী করলে বন্ধ হবে দেশজুড়ে চলতে থাকা একের পর এক ধর্ষণ? খোলা মনে নিজেদের মতামত জানালেন সোহিনী সেনগুপ্ত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Tollywood Celebs)---


lbul839o


ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উচিত আরও সংবেদনশীল হওয়া (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, পরিচালক-অভিনেতা): আইন আমাদের হাতে নেই। এর দায়িত্বে রয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধানেরা। আমি ছবি বানাই। তাই আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে বলব, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে। ইদানিং, প্রায় অর্ধেক বাংলা ওয়েব সিরিজে মেয়েদের যেভাবে দেখানো হচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। মোবাইলেও ওই ওয়েব সিরিজগুলো দেখা যায়। এবং দেখেন এখনকার প্রজন্ম। তাঁরাই কিন্তু বেশি করে তেলেঙ্গানা-উন্নাওয়ের মতো পাশবিক ঘটনা ঘটাচ্ছেন। এই সমস্যার মূল শিশুবয়স থেকে। এখন বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখতে হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছি। এবং যে ওয়েব কনটেন্ট আমরা দেখি সেটা ডিলিট না করেই ওদের দিচ্ছি। বাচ্চারাও সেটাই দেখছে। দেখতে দেখতে বড় হচ্ছে। ওদের কী শেখাচ্ছি আমরা? ঘর থেকে তাই শিক্ষা শুরু হওয়া উচিত। পাশাপাশি, ছবি বা ওয়েব সিরিজ জনপ্রিয় করতে মেয়েদের পণ্য না বানানোই ভালো। এতে কি মেয়েদের সম্মান থাকছে? গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের কোনও ছবিতে কিন্তু এই ধরনের দৃশ্যের প্রয়োজন পড়েনি। তারপরেও সব ছবি হিট। আগামী নারী দিবসে আমরা দর্শকদের উপহার দেব 'ব্রহ্মা জানেন, গোপন কম্মটি' ছবি। সমাজের চোখে মেয়েদের অবস্থান এবং তাঁদের প্রকৃত অবস্থাকে তুলে ধরবে এই ছবি। হয়ত এই সমস্যারও সমাধান মিলবে।


"ওদের গুলি করে মারা উচিত": উন্নাওয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত ধর্ষিতার বাবা

আমি হতাশ, সমাজ কোথায় পৌঁছোচ্ছে! (ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, অভিনেতা): সংবাদমাধ্যম জুড়ে রোজ একাধিক ধর্ষণের খবর! কোথায় পৌঁছোচ্ছি আমরা? সমাজ কোথায় পৌঁছোচ্ছে? আমি সত্যিই হতাশ। রাগ-যন্ত্রণা-দুঃখ প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আস্তে আস্তে সমাজ, মানবিকতা, মনুষত্ব যেন ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে। আর আমরা চুপচাপ দেখছি। জানি না, এর শেষ কোথায়, কীভাবে? এভাবে গুলি করে মারা সমাধান? জানা নেই। তবে এটুকু বলব, ঈশ্বর তেলেঙ্গানার ধর্ষকদের শাস্তি নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। প্রিয়াঙ্কা হয়ত ফিরবেন না। কিন্তু ওঁর মা-বাবা বিচার পেলেন। নারীরা ভীষণ সংকটে। এটা কাম্য নয়।

ঘরে মায়েরাই সম্মান পান না, বাইরের মেয়েরা দূরঅস্ত (কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিনেতা): শুধু আইন দেখিয়ে কিচ্ছু হবে না। আইন যেমন আছে আইনের ফাঁকও আছে। সেই ফাঁক গলে বেল নিয়ে বা অন্য কোনও পথে খালাস পাচ্ছে অপরাধীরা। এত কিছু বদলাচ্ছে, আইনের বদল হবে না? নতুন আইন যত কঠোর হবে ধর্ষণের আগে একবার ভাবতে বাধ্য হবে ধর্ষক। দরকারে সবার সামনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক অপরাধীদের। ছাল ছাড়িয়ে, নুন মাখিয়ে, একটা একটা করে অঙ্গচ্ছেদ করে, তিলে তিলে মারা হোক এদের। এত নেতার ভাষণ লাইভ হয়, একটা মৃত্যুদণ্ড না হয় লাইভ হল! যা দেখে ভয় ঢুকবে সবার মনে। ভয় পাওয়ানো খুব জরুরি এখন। আমাদের মায়েরাই তো বাড়িতে সম্মান পান না এখনও! মাছের সবচেয়ে ছোট টুকরো তাঁদের পাতে। অপমান-গঞ্জনা তো আছেই। গায়েও হাত তোলা হয়। সেই দাগ মেকআপে লুকিয়ে মায়েরা আজও সংসার সামলান চোখের জলে ভিজতে ভিজতে। তাঁদের ছেলেরা এই দেখে বড় হচ্ছে। তাঁরা বাইরের মেয়েকে কী সম্মান করবে? এনকাউন্টার এর উত্তর নয়।

উন্নাওয়ে গেলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি, দেখা করলেন মৃত ধর্ষিতার পরিবারের সঙ্গে

মেয়েরা বাঘিনী হয়ে উঠুন (সোহিনী সেনগুপ্ত, মঞ্চ-পর্দা অভিনেতা): পক্ষ-বিপক্ষে নেই আমি। খবর দুটো শোনার পর থেকে, তারও আগে গত কয়েক বছর ধরে একটুও ভালো নেই। একবার ন্যাশনাল পানিশমেন্টের বিরুদ্ধে একটা নাটক করেছিলাম। তার প্রধান চরিত্র তখন প্রশ্ন করেছিলেন, কবে আইন শাস্তি দেবে তার অপেক্ষায় হা-পিত্যেশ বসে থাকবে আক্রান্ত, তার পরিবার? উত্তর দিতে পারিনি। আবার আমার ছোটবেলার শিক্ষা বলেছে, এভাবেও তো ন্যাশনাল পানিশমেন্ট দেওয়া উচিত নয়! তা হলে কে ঠিক? কী ঠিক? মৃত্যুদণ্ড বা এনকাউন্টার এর সমাধান নয়। শিক্ষা-অন্ন-চাকরি সবার আগে দরকার। ফ্রি-মিক্সিং, পোশাকের জন্য ধর্ষণ হচ্ছে---এগুলো ভীষণ বাজে কথা। তাহলে ৫৫ বা ৬৫ বছরের বয়স্ক ধর্ষিত হতেন না। শিক্ষা দিতে হবে বাড়ির ছেলেদের। পাশাপাশি বাড়াতে হবে সমাজসচেতনতা। শহরে পিঙ্ক ট্যাক্সি আছে। তার মহিলা চালক রয়েছেন নারী-নিরাপত্তার জন্য। এও যেমন হচ্ছে তেমনি ধর্ষণও বাড়ছে। আসলে রাগ, অসহিষ্ণুতা, অধৈর্য, দেশপ্রেমের নামে অন্যায় চলছে সারাক্ষণ। এসব না কমালে কমবে না ধর্ষণ। 


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement