হোমবলিউড

'রোম্যান্টিক হিরোর করুণ হাসি দেখা যায়!' এই জন্যেই ঋষিকে দেখতে যাননি বিগ বি?

যিনি এমন তীব্রভাবে জীবনকে ভলোবাসেন তিনি শেষমুহূর্তেও হাসবেন, জানতাম। আর জানতাম হাসতে হাসতে বলবেন, মৃত্যু এসে বলছে জাগো/ প্রভাত হল তোমার রাতি/

  | May 01, 2020 12:15 IST (নয়া দিল্লি)
Amitabh Bachchan

অমিত-ঋষি বহু ছবিতে কাজ করেছেন একসঙ্গে (সৌজন্যে ইনস্টাগ্রাম)

Highlights

  • বৃহস্পতিবার চলে গেলেন ঋষি কাপুর
  • "কখনও তিনি নিজের অবস্থা নিয়ে কোনও কথা বলতেন না" লিখেছেন বিগ বি
  • "আমি কখনও ওঁর করুণ মুখ দেখতে চাননি" জানান শাহেনশা

বহু সুপারহিট ছবির সহ-অভিনেতা। কাছের বন্ধু। মেয়ের শ্বশুরবাড়ির তরফের আত্মীয়। তবু একদিনের জন্যও হাসপাতালে ঋষি কাপুর (Rishi Kapoor) ওরফে 'চিন্টু'কে হাসপাতালে দেখতে যাননি বলিউডের আরেক মহীরুহ অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan)। বুধবার গভীর রাতে ঋষি চিরকালের জন্য আশ্রয় নেন ঘুমের দেশে। বৃহস্পতিবার সকালে সবার আগে সেই শোকবার্তা সোশ্যালে টুইট করেন বিগ বি। কিন্তু একদিনের জন্যও কেন হাসপাতালে বন্ধুকে দেখতে যাননি তিনি? শোকের আবহেও এই প্রশ্ন ঘুরেছে বলিউডে। ঋষি কাপুরের শেষকৃত্যের পর অবশেষ সেকথা সবার সামনে আনলেন অমিত। জানালেন, কী করে তিনি রোম্যান্টিক হিরোর মুখের ওই করুণ হাসি দেখতেন! কারণ, তিনি জানতেন, শেষ সময়েও ঋষির পাতলা, লালচে ঠোঁটের কোণে একফালি হাসি লেগেই থাকবে। তবে প্রকৃত কারণ জানানোর আগে দুবার টুইট মোছেন তিনি। জানান, আসল কথা জানানোর সময় আসেনি এখনও। তিনিও মানসিক দিক থেকে প্রস্তুত নন। বন্ধুর শেষকৃত্যেও উপস্থিত ছইলেন না তিনি। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে শেষকাজে দেখা গেছে অভিষেক এবং ঐশ্বর্য রাই বচ্চনকে।

'এভারগ্রিন নেভার ডাইস', ৬৭ বছরের সফরনামায় প্রমাণ করে গেলেন ঋষি কাপুর

পরে ঋষি কাপুর অভিনীত সুপারহিট ছবি সরগম-এর মুহূর্ত তিনি ডিপি বানান তাঁর সোশ্যালের। এই ছবিতে প্রয়াত অভিনেতার ডাফলি বাচানো জনপ্রিয় হয়েছিল সিনে দুনিয়ায়। সেই ডাফলির ছবি এখন শাহেনশার ডিপি।

ঋষিকে স্মরণ করে অমিতের স্মৃতিচারণা, "বুধবার চলে গেলেন ইরফান খানের মতো আন্তর্জাতিক মানের প্রতিভা। মাত্র ৫৩-য়। তারপরেই আজ ঋষি কাপুর। আমি যেন ভেঙেচুরে খানখান।" বিগ বি আর ঋষি জুটি বেঁধে একাধিক সুপারহিট ছবিতে কাজ করেছেন। তালিকায় রয়েছে কভি কভি, অমর আকবর অ্যান্টনি, নসিব, কুলি-র মতো ছবি। ২০১২-য় তাঁরা ফের একসঙ্গে ফেরেন ১০২ নট আউট দিয়ে। সেখানে বিগ বি-র ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ঋষি কাপুর। পাশাপাশি বিগ বি রাজ কাপুরের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ, হোলি খেলা, ঋষি কাপুরের হাঁটা-চলা-বলার স্টাইল,বুদ্ধিদীপ্ত রসবোধ---সব নিয়ে কথা বলেন।


ভাইরাল! হাসপাতালেই হবু শ্বশুরকে শেষবার দেখতে পৌঁছে গেলেন আলিয়া

শাহেনশার পোস্ট পড়ুন:

"আমি তাঁকে কাছ থেকে দেখেছি বহুবার। চেম্বুরে, দেওনার কটেজে--- তাঁর বাড়িতে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টগবগে জোয়ান ঋষি কাপুর। ঋষি বরাবরই একঝলক দমকা দখিনা হাওয়া। যে নিমেষে মন ভালো করে দেয়। যে পলকে উলটে পালটে দেয় সবকিছু। এভারগ্রিন ঋষি শেষদিন পর্যন্ত যেন ছিলেন ঋতুরাজ বসন্ত। কখনও তাঁকে ভাঙতে দেখিনি। কখনও তাঁক বিমর্ষ দেখিনি। ববি থেকে ১০২ নটাউট---অফুরন্ত এনার্জি। আর শেখার ইচ্ছে। আর ফাঁক পেলেই দেদার দুষ্টুমি। এই ছিলেন ঋষি কাপুর। মেকআপ করতে করতেও মাতিয়ে রাখতেন সাজঘর।

তাঁর হাঁটা-চলা-বলা ছিল ভীষণ প্রাণবন্ত। মারাত্মক দৃঢ়চেতা। অনেকটা ঠাকুরদা পৃথ্বিরাজ কাপুরের মতো। রোম্যান্টিসিজমে বাবা রাজ কাপুরকেও এক এসময় ছাপিয়ে গেছেন। আমরা একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছি। তিনি তাঁর সমস্ত সংলাপ বলতেন মনের গভীর থেকে। কারণ, তিনি সংলাপগুলো নিজের মনের গভীরে গেঁথে নিতেন। বিশ্বাস করতেন। তাই তাঁর বলা ডায়লগ এতটাই জীবন্ত হয়ে উঠল পর্দায়। যা অনেক সময় আমিও পারিনি। আর ছিল গানের দৃশ্যএ নিখুঁত লিপ সিঙ্কিং। নিজে গান-বাজনা ভালোবাসতেন। তাই গানের দৃশ্য, ডাফলি বাজানো তাঁর ছোঁয়ায় যেন প্রাণ পেত।

''একে একে 'নায়ক'-রা ছেড়ে যাচ্ছেন', টুইটারে শোকাচ্ছন্ন মাধুরী দীক্ষিত

সেটে অবসর মিললেই সবাইকে ডেকে খেলতে বসে পড়তেন। এক মুহূর্ত চুপচাপ বসে থাকতে পারতেন না। সবাইকে নিয়ে হয় তাস নয় ব্যাগটেল বোর্ড খেলতেন। আর সবসময় জিততেন তিনিই। ভীষণ সিরিয়াস দৃশ্যেও মজা বের করে আনতে জানতেন ঋষি। তাই হাসতে হাসতে মৃত্যুর দৃশ্যে অভিনয় করে দর্শকদের কাঁদিয়ে ছাড়তেন। এটাই ছিলেন আমার দেখা ঋষি কাপুর। 

রোগ ধরা পড়ার পর একদিনের জন্য হা-হুতাশ করেননি। কাউকে দোষ দেননি। নিউ ইয়র্কে চিকিৎসা চলার সময়ে চিকিৎসক, নার্সদের সঙ্গে সবরকম সহায়তা করতেন। দেশে ফেরার পরেও যখন তাঁকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল, সবাইকে গানে-হাসিতে মাতিয়ে রাখতেন। আর বলতেন, আমি ফিরে আসব। খুব তাড়াতাড়িই ফিরে আসব। মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে কজন এভাবে জীবন উপভোগ করতে পারেন! 

'পরপর জোড়া ধাক্কায় বেসামাল বলিউড', ঋষি-র প্রয়াণে টুইট আমির খানের

যিনি এমন তীব্রভাবে জীবনকে ভলোবাসেন তিনি শেষমুহূর্তেও হাসবেন, জানতাম। আর জানতাম হাসতে হাসতে যাওয়ার সময় বলে যাবেন, মৃত্যু এসে বলছে জাগো/ প্রভাত হল তোমার রাতি/ নিভিয়ে যাব আমার ঘরের/ চন্দ্র-সূর্য দুটো বাতি....! এই দৃশ্য দেখতে অনেক কলজের জোর লাগে। জীবনের শেষ দৃশ্যের এমন মারাত্মক অভিনয় দাঁড়িয়ে দেখা যায়?'


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
 
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com